অনুবাদ পাতা
লাতভিয় ভাষার কবিতা
প্রার্থনা
কবি : ইমান্ত জিয়েদনিস
কবি পরিচিতি ও অনুসৃজন : স্বপনকুমার পাহাড়ী
ওগো সূর্য,ওগো মহান দিবাবসানের সূর্য,
তোমাকে উঠতে দেখি জেলে আর জালের ওপর
মানুষের জীবনের ওপর
আর দেখি মাছেদের মৃত্যুর ওপর
ওগো সূর্য, ওগো মহান দিবাবসানের সূর্য,
যার শিখায় আকাশ জ্বলে লাল
আমার জেলেভাইদের দিও আজ তুমি নিত্যদিনের রুটি
দেখাও ওদের মাছের গুপ্ত পথ
কেননা ওখানে গভীর জলের নদীতে
সাঁতরায় দেখি জেলেদের সম্পদ
জেলেদের যত রুচি আর যত স্বপ্ন
ওখানে সাঁতার কাটে ওদের বাইক
আপেলগাছ, ফুলের বিছানা, বারান্দা …
দেখাও ওদের, ওগো মহান দিবাবসানের সূর্য,
সেই সব পথ যে সকল পথে মাছের পোনারা ঘোরে
কিন্তু আমরা অধিকাংশই স্ত্রীমাছগুলিই খুঁজি
মহিমান্বিত পেট যাহাদের শোভে।
সাহায্য করো আমাদের, ওগো দিবাবসানের সূর্য,
যাতে ছেলেপুলে আরো বেশি ক’রে জন্মায়!
সাহায্য করো, এসো বালকের কাছে
টুকরো মাত্র হ’য়ে
শত রেডিওর বদলে।
সাহায্য করো মানুষগুলোকে, ওগো মহান দিবাবসানের সূর্য,
সাহায্য করো আমাদের এই বিশুদ্ধ ব্যবসায়!
কবি পরিচিতি: (জন্ম ৩রা মে, ১৯৩৩-য়ে এক মৎস্যজীবি পরিবারে। লাতভিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাতত্ত্বে ডিগ্রী নেওয়ার কিছু পরে মস্কোয় অ্যাডভান্সড লিটারেচার বিষয়ে অতিরিক্ত ডিগ্রী নেন। তরুণ বয়সে বিভিন্ন ধরণের কাজ করেছেন-- গ্রন্থাগারিক থেকে রাস্তা নির্মাণকর্মী, শিক্ষক থেকে সাহিত্য-সম্পাদক। সোভিয়েত রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত লাতভিয়ার অত্যন্ত প্রভাবশালী জনগণের কবি, গদ্যকার ও পাবলিক ফিগার। প্রধানত গীতিকবি। তাঁর কাব্যভাষা ও রূপক প্রায়শঃ লাতভিয় জীবন ও সংস্কৃতিকে স্পর্শ করে। লোককথা সংগ্রহ করে লিপিবদ্ধ করেছেন। শিশুদের জন্যে গল্পও লিখেছেন তিনি।
উল্লেখযোগ্য কাব্য: Sand of Earth and Dreams,1961; Heart’s Dynamite, 1963; I Enter Myself, 1968, Epiphanies,1971; The Attack of the Butterflies,1988. লাতভিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে প্রবল সমর্থন ছিল তাঁর। স্বাধীনতার গান হিসেবে তাঁর গানগুলি নিয়ে সঙ্গীতজ্ঞদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সঙ্গীতান্দোলনে জড়িত ছিলেন। ১৯৭৭-য়ে সোভিয়েত সরকার দেয় সোভিয়েত লাতভিয়ার জাতীয় কবির পুরস্কার। ১৯৯৫-এ পেয়েছেন লাতভিয়ার উচ্চতম সম্মান Order of The Three Stars পুরস্কার। পরলোক গমন ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩।)
লাতভিয় ভাষার কবিতা:
কী আশ্চর্য--এতগুলো দুর্দশার দিন
কবি: ইমান্ত জিয়েদনিস
অনুবাদ: স্বপনকুমার পাহাড়ী
কী আশ্চর্য--এতগুলো দুর্দশার দিন
কেটে গেল আমাদের ছাড়াছাড়ি হ’য়ে গেলে পর, তুমি আর আমি,
তবুও স্মৃতির আলোকচিত্রখানিতে
ভালোবাসার হাত দু’খানি তোমার
এখনো বাড়িয়ে রয়েছো আমার দিকে।
তাঁবু ঘিরে রাত দৃঢ় করে বাহুডোর।
সোঁদা আঘ্রাণ। বৃষ্টি পড়ে। বড়ো বড়ো ভারি ফোঁটা।
আর আমি তোমার প্রিয় মুখখানি মুদ্রিত ক’রে চলি
দূর কারেলিয় ঝাড়ে বার্চের বাকলে।
রেলগাড়িতে রাত। ঘুমন্ত পড়শী শুয়ে থাকে।
কেবল একলা বাতাস গর্জন করে জানলাখানার বাইরে।
আর আমি মুদ্রিত ক’রে চলি
তোমার প্রিয় চোখ দুটি স্যুটকেসগুলোর ওপর,
গাড়ির পাদানিগুলোয়, দরজাগুলোর গায়ে।
আর ম্লান বাদামী মাটিতে থাকা আলুগুলোর ওপর
কোথাও বন্দরে থামের গায়ে
আমি মুদ্রিত করছি তোমায় চাদ্দিকে সবকিছু্র গায়ে
তুষারে, পাথরে, বালিতে তোমার মুখখানি ফুটে ওঠে।
আকাশে যেখানে মেঘেরা কোনো
মোমবাতির দিকে নেই
আর ফুটপাতের কুচকুচে কালো পিচের ওপর।
ফোটোপেপারের কোনো প্রয়োজন নেই
প্রয়োজন নেই ডেভলাপার বা ফিক্সিং এজেন্টেরও।
এর চাইতে উজ্জ্বল আর কিছুই হতে পারে না কখনো
টাচের কাজ কিংবা গ্লসিংয়েরও দরকার নেই এখানে:
স্মৃতির ফোটোফিল্মে
তুমি এগিয়ে আসছো বরাবর কেমন আশ্চর্য পরিষ্কার!
--------------------------------------
Swapankumar Pahari
Dakshin Paikbar,
PIN--721450.
Contact No.9734510360.
দু’টি চিনা কবিতা
কবি: অ্যানা কেইকো
অনুবাদ: স্বপনকুমার পাহাড়ী
১
যদি ভালোবাসো
তুমি নৌকো হলে
আমি হোবো জল
তুমি জল হলে
আমি হোবো কূল
তুমি কূল হলে
আমি হোবো সেতু
তুমি সেতু হলে
আমি ওপারে তোমার জন্যে অপেক্ষা করবো
চিরকাল...
২
বুখারেস্ট পার্কে বেড়ানো
উঁচু আসমানে স্থির ছিল চাঁদখানি
হ্রদটির ঢেউ আছিল উদ্বেলিত
ঝোপঝাড়গুলি ছিল রহস্যময়,
যেমন আমার হৃদয়ের হুতাশন।
আচমকা এক খণ্ড কৃষ্ণ মেঘ
আবৃত করলো সমুখের ঐ পথ
যদিও আছিল গ্রীষ্মের মাস জুন
শীতল বাতাস পোশাক পেরিয়ে ছুঁলো।
ঝড়ের সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিধারা
লুকোনোর কোনো ঠাঁই নেই, সবই গেছে,
ঘন অরণ্যে দিশেহারা পুরো একা
খুঁজে নিতে হোলো বাইরে আসার পথ।
কবি পরিচিতি:
অ্যানা কেইকো (আসল নাম: ওয়াঙ শিয়াঙলিয়েন)
একজন আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতনামা জনপ্রিয় চিনা কবি। ইস্ট চায়না ইউনিভার্সিটি অব পলিটিক্যাল সায়েন্স এ্যাণ্ড ল-য়ের স্নাতক। এসিসি সাংহাই হুইফেঙ ইন্টারন্যাশনাল লিটারেচারের প্রতিষ্ঠাত্রি-সভানেত্রী এবং প্রধান সম্পাদিকা। চিত্রকরও বটে। এঁর কবিতা ৩০টিরও বেশি ভাষায় অনুদিত হয়ে ৫০টিরও বেশি দেশে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত কবিতার বই ১১টি। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসবে আমন্ত্রিত কবি হিসেবে যোগ দিয়েছেন, ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক কাব্যপুরস্কার পেয়েছেন এবং ২০২০-তে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্যে মনোনয়ন লাভ করেছিলেন।
№###################***
№#######"""
##############"""""""
বরেণ্য কবি জয়ন্ত মহাপাত্রের কয়েকটি কবিতার অনুবাদ আর এক বার....
/ Sanskrit //Written by : jayanta Mahapatra .অনুবাদক : মনোজিৎ দাস।।
জাগিয়ে তোল তাদের,
যারা দরজার হ্যান্ডেলে টোকা দিচ্ছে।
গ্রীষ্ম প্রধান দেশে সমুদ্রের
জেলিফিশের মত ,
চাপ দিলে ভেঙ্গে গলে যায়।
ঘুমন্ত অবস্থায় হাত দিয়ে
ছিঁড়তে থাকা দৈববাণী ।।
খুব শক্ত শোনায় -
কৃপণ পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে
পৃষ্ঠা গুলো,
গাছের লাইনের কান্ড থেকে গন্ধ বের হয় বছরের পর বছর
শাখা গুলো মসৃণ ও মৃত।
যদিও আকাঙ্খা গুলো ভান করে আকাশে।
কিন্তু হারিয়ে যাওয়া ছোঁয়া গুলো তাদের মধ্যে স্থায়ী হয়।।
যদিও বেনারসের ঘাটে,
যেখানে প্রাণহীন দেহগুলো
ভেসে উঠেছে মানুষের মত
এলোমেলো মাথা
ভাসতে থাকে ফুলের কুঁড়ি যত্র তত্র।
জপের মালাগুলো নাচতে থাকে বৃষ্টির ধারায়,
পালকের নিঃশব্দ শব্দের মত গ্রীষ্মকাল স্বরণ করে দেয়,
তাদের অক্ষরগুলো মগ্ন করে
নিঃশব্দে।
এগুলো না শুনে পালিয়ে যেতে পারবে না এখন।
এক রহস্যজনক স্বর্গীয় পথ
রক্ষিত করে, প্রভাবিত করে সমস্বরে, স্পন্দিত হয় বটগাছে।
মুচির তৈরি খড়মের শব্দের ধ্বনি তোলে,
অনিশ্চিত মন্ত্রের বুলি কম্পিত হতে থাকে দুঃখের কুয়াশায়।।
## Traveler##
Written by Jayanta Mahapatra.
অনুবাদক: মনোজিৎ দাস।
প্রতিদিন সন্ধ্যায়
মন্দিরের ঘণ্টা বাজানোর শেষে তার ভারী মেরুদণ্ড বিশ্রাম নেয়।
সময় যথারীতি বিস্মৃতি হয়
আমি শিক্ষা নেই,কি করবো।।
এক গরম বাতাস উত্থিত হয়
অন্ধকার ধরিত্রী থেকে
আশা জাগানোর মত।
একটা ঘরের পাশে -
এক মৃতপ্রায় কন্যা তার মায়ের বাহুতে।।
অন্যত্র একজন,
নিজের প্রতি প্রতিশোধ নেয় তার ভগ্ন জীবনের জন্য
নিজের সামান্য দুর্দশা দেখি
মানুষের মধ্যদিয়ে -
তার পরেও জুঁই ফুলের মিষ্টি ও বিমর্ষ গন্ধ পাই।।
প্রতিটি মুহূর্তের একটা উদ্দেশ্য থাকে:
এটা শীতল ও ক্লান্তিকর নয়
গভীর ভাবে তাড়া করে,
নতুন করে বৃদ্ধি পায় ঘাস
আকাশ বিদীর্ণ করে ড্রামের শব্দে,মেয়েটি হাঁটু গেড়ে বসে তার বক্ষে।
বাতাস প্রতারণা করে নিজেকে -
যা বহন করে মেয়েটির চিৎকার,
যে মরতে চলেছে মায়ের কোলে।।
আমার সময় ও জ্ঞান
শান্ত করে রাতে
যতক্ষণ না পাখীর ঝাপটা আসে।
আমি চেষ্টা করি ভার গুলোকে জড়িয়ে ধরতে,
কিন্তু অজানা ভারগুলো
আমাকে প্রোথিত করে।।
